যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন: সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতেই

প্রধান সংবাদ যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটরা সক্ষম হয়েছে। নেভাদায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয়ের পর ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে। সিনেটের ১০০ আসনের ৫০টি ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকল। রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ৪৯টি। খবর সিএনএন, এপি, বিবিসি ও রয়টার্সের।

এডিসন রিসার্চের মূল্যায়নে বলা হয়-নেভাদায় কয়েক দিনের ভোটগণনা শেষে শনিবার রাতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্তোর সিনেটর পদে পুনর্র্নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সিএনএন এবং অন্য মার্কিন গণমাধ্যমও মাস্তোকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। শেষ কয়েক শতাংশ ভোট গণনার আগ পর্যন্ত রিপাবলিকান অ্যাডাম পল লেক সল্টই এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু নেভাদার সবচেয়ে বড় এলাকা ক্লার্ক কাউন্টির সর্বশেষ ব্যাচের ব্যালট মাস্তোকে এগিয়ে দেয়। সর্বশেষ ব্যাচে যে ২৩ হাজার ২০০ ব্যালট গণনা হয়, তাতে ডেমোক্র্যাট মাস্তো পান ১৪ হাজার ১০০টি ভোট; ল্যাকসল্ট ব্যাগে ভরতে পারেন শুধু ৮ হাজার ২০০ জনের সমর্থন। এ ব্যালটের আগে ল্যাকসল্ট ৮০০-র কাছাকাছি ভোটে মাস্তোর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। অ্যারিজোনায় আগের দিন সিনেটর মার্ক কেলির জয়ের পর থেকে সবারই চোখ ছিল নেভাদার দিকে।

৬ ডিসেম্বর জর্জিয়ার ‘রান অফ’ ভোটে রিপাবলিকানরা জিতলেও সিনেট ডেমোক্র্যাটদের হাতছাড়া হবে না। এক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ ৫০-৫০ এ ভাগ হয়ে গেলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ‘টাই-ব্রেকিং ভোটের’ সুবিধা নিয়ে ডেমোক্র্যাটরাই সিনেটে কর্তৃত্ব করতে পারবে। এ ফল প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনকে বেশ স্বস্তি দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে টানা কয়েক মাসের জনমত জরিপ তার জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

এদিকে ভোটের পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ কার দখলে যাবে তা নির্ধারিত হয়নি। রিপাবলিকানরা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও ‘ম্যাজিক নাম্বার’ ২১৮ নিশ্চিত করতে পারেনি। ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের ২১১টি পেয়েছেন রিপাবলিকানরা আর ২০৪টি ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেছে। এখনও ২০টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি।

৮২ মুসলিম প্রার্থীর জয় : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন পর্যায়ে ৮২ জন মুসলিম প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। ২৫টি রাজ্যের স্থানীয়, রাজ্য, ফেডারেল এমনকি বিচার বিভাগীয় আসনেও তারা জয়ী হন। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) ও জেটপ্যাক রিসোর্স সেন্টারের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে ৭১ জন মুসলিম প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন।

এবার ভার্জিনিয়া, জর্জিয়া ও টেক্সাস রাজ্যে মুসলমানরা বেশিরভাগ জয় পেয়েছে। নির্বাচিত মুসলিম সদস্যদের তালিকায় ১৭ জন নতুন প্রার্থী রয়েছেন। ইলহান ওমর ও রাশিদা তালাইবের মতো কিছু আলোচিত ও জনপ্রিয় মুসলিম কংগ্রেসওম্যান তাদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে মুহাম্মদ ওজ বিজয়ী হতে পারলে তিনিই রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে প্রথম সিনেটর হতে পারতেন। পেনসিলভেনিয়ায় তিনি পরাজিত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়-সিটি কাউন্সিল এবং স্থানীয় শিক্ষা বোর্ড থেকে ইউএস হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মুসলমানরা আসন জিতেছে। সিএআইআরের নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ বলেন, দেশ এখন একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলমানদের এ বিজয় আমেরিকান রাজনীতিতে আমাদের সম্প্রদায়ের চলমান উত্থানের প্রমাণ। আমাদের প্রতিবেশীরা তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে এবং তাদের স্বার্থের জন্য লড়াই করার জন্য আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক হয়ে থাকা আমেরিকার মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন আওয়াদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *