দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যবসা বিস্তৃত করছে অ্যান্ট গ্রুপ

অর্থনীতি আন্তর্জাতিক

সিঙ্গাপুরে ডিজিটাল করপোরেট ব্যাংক চালু করল অ্যান্ট গ্রুপ। গতকাল অ্যানেক্সট ব্যাংক নামের এ প্রতিষ্ঠান চালু করে চীনা আর্থিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে সংস্থাটি ডিবিএস গ্রুপ ও ওভারসি-চাইনিজ ব্যাংকিং করপোরেশনের মতো ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামছে। নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতায় ধনকুবের জ্যাক মার প্রতিষ্ঠানটি চীনের বাইরে ডিজিটাল ব্যাংকিং কার্যক্রম বিস্তৃত করতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মনোযোগ বাড়াচ্ছে অ্যান্ট।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, অ্যান্ট গ্রুপের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন অ্যানেক্সট ব্যাংক ২ জুন মনিটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর (এমএএস) থেকে ব্যবসা করার অনুমতি পেয়েছে। সংস্থাটি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসা বিশেষ করে আন্তঃসীমান্ত কার্যক্রম থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা দেবে। অ্যান্ট গ্রুপের প্রায় ৩৩ শতাংশের মালিকানায় রয়েছে চীনা ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা। ২০২০ সালের শেষ দিকে অ্যান্ট সিঙ্গাপুরে ডিজিটাল করপোরেট ব্যাংকিং চালুর লাইসেন্স পেয়েছিল।

অ্যান্টের পাশাপাশি টেকনোলজি ফার্ম সি এবং রাইড-হেইলিং ও ফিনটেক ফার্ম গ্র্যাপের একটি উদ্যোগও ২০২০ সালে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেয়েছে। এ লাইসেন্সের মাধ্যমে উদ্যোগটি সিঙ্গাপুরের সংস্থাগুলো থেকে সরাসরি আমানত গ্রহণ এবং খুচরা ও করপোরেট গ্রাহকদের স্থানীয়ভাবে পরিষেবা দেয়ার অনুমতি পেয়েছে। চলতি বছর যৌথ উদ্যোগটি ডিজিটাল ব্যাংক চালু করবে বলে আশা করছে এমএএস।

কয়েক বছর ধরেই চীনা নিয়ন্ত্রকের চাপে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছে অ্যান্ট গ্রুপ। ২০২০ সালের শেষ দিকে সংস্থাটির ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আটকে দেয়া হয়েছিল। এরপর অ্যানেক্সট ব্যাংকই দেশের বাইরে অ্যান্টের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সংস্থাটি লাজাদা নামের ই-কমার্স অপারেটর ইউনিট দিয়েও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যবসা বাড়াচ্ছে।

২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত অ্যান্ট গ্রুপের পেমেন্ট অ্যাপ আলিপেতে প্রায় ১০০ কোটি বার্ষিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল। প্রতিষ্ঠানটি চীনের বাইরে ১০টি ডিজিটাল ওয়ালেট অপারেটর সংস্থায়ও বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের পেটিয়েম ও ইন্দোনেশিয়ার ডানা।

প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর জন্য ব্যাংকিং শিল্পকে উন্মুক্ত করার জন্য হংকংয়ের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সিঙ্গাপুর। এমএএসের চিপ ফিনটেক অফিসার সোপনেন্দু মোহান্তি বলেন, এটি সিঙ্গাপুরের ডিজিটাল ব্যাংক বিকাশের যাত্রায় আরেকটি মাইলফলক চিহ্নিত করেছে। এটি দেশের ব্যাংকিং খাতকে প্রগতিশীল, বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক ও প্রাণবন্ত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কৌশলগত প্রচেষ্টা। ডিজিটাল ব্যাংকগুলো যে ক্রমাগত উদ্ভাবন ও নতুন নতুন সক্ষমতা তৈরি করতে চলেছে তা নিঃসন্দেহে সিঙ্গাপুরের আর্থিক খাতের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

অ্যানেক্সট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তোহ সু মেই বলেন, অ্যানেক্সট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি উন্মুক্ত কাঠামো তৈরি করবে। এক্ষেত্রে সংস্থাটিকে সহায়তা করবে এমএএস ও সিঙ্গাপুরের ইনফোকম মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির উদ্যোগে তৈরি স্থানীয় নিয়ন্ত্রক প্রক্সটেরা। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) থেকে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর (এসএমই) জন্য অ্যানেক্সটে ব্যবসায়িক হিসাব খোলা যাবে বলেও জানান তিনি।

তোহ সু মেই বলেন, আর্থিক পরিষেবা কার্যক্রমের প্রধান একটি অংশ মূলত ব্যাংকিং পরিষেবা। আমরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি বিস্তৃত করছি। আশা করছি, সিঙ্গাপুরকে একটি লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করতে পারব। অ্যানেক্সট ব্যাংকের জন্য সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি দল গঠন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ কর্মী নগররাজ্যের এবং বাকিরা চীনা হবেন।

ডিবিএসের সাবেক নির্বাহী সু মেইয়ের ব্যাংকিং খাতে দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। অ্যানেক্সটে যোগদানের আগে তিনি এ অঞ্চলে এসএমইর জন্য ডিজিএসের ঋণদানকারী ইউনিটের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাংকটি বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুদের হার নির্ধারণ করবে। আমাদের লক্ষ্য ব্যবসা করা। আমরা এখানে মূল্যযুদ্ধ তৈরি করতে আসিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *