নোবেল পুরষ্কারে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে কেন?

যুক্তরাষ্ট্র

চলতি বছর নোবেল বিজয়ী ১৩ জনের মধ্যে আট জনই মার্কিন নাগরিক- যা আবারও প্রমাণ করল শীর্ষ প্রতিভার ক্ষেত্রে মার্কিনিরাই এগিয়ে। শুধু তাই নয়, এ বছর তারা নোবেল জয়ের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে। কেন তারা বারবার এ ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করছে, এ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে এএফপি। ১৯০১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪০০টি নোবেল পদক ঘরে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৩৮ পদক নিয়ে পরের অবস্থানেই রয়েছে যুক্তরাজ্য এবং ১১১টি পদক জিতে তিন নম্বরে রয়েছে জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্রের এই এগিয়ে থাকার সবচেয়ে বড় কারণ হলো তাদের গবেষণা ব্যয়। গবেষেণা খাতে দেশটির ব্যয়-বরাদ্দ অনুপ্রেরণার জন্যই প্রতি বছর নোবেল পুরস্কারে এগিয়ে থাকেন মার্কিনরা।

এ বছর মেডিসিনে নোবেল পাওয়া আর্ডেম প্যাটাপোসিয়াম পুরস্কার পাওয়ার পরের অনুভূতিতে বলেন, ‘এই দেশে আমাকে যে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে তার জন্য সত্যিই আমি কৃতজ্ঞ। তিনি আর্মেনিয়ান মার্কিনি, বেড়ে উঠেছেন লেবাননে। তার সাফল্যের কৃতিত্বের দাবি রাখে পাবলিক-ফান্ডেড ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সিস্টেম এবং স্ক্রিপস রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এই দুটি প্রতিষ্ঠানেই উচ্চতর ডিগ্রি থেকে শুরু করে গবেষণা কাজে দুই দশক পার করেছেন আর্ডেম। প্রসঙ্গত, তার সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছেন ডেভিড জুলিয়াসের বাড়িও সান ফ্রান্সিসকোতে, যার জন্ম নিউইয়র্কে। এবারের পদার্থবিজ্ঞান পুরস্কারের সহ-বিজয়ী শিউকুরো মানাবে, যিনি ১৯৫০-এর দশকে জাপান ছেড়ে নিউজার্সির প্রিন্সটনে জলবায়ু মডেলের ওপর তার যুগান্তকারী কাজ করেছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নিজের ভেতরকার কৌতূহল মেটাতে এবং সাফল্য অর্জন করতে সহযোগিতা করেছিল দেশটি।

রসায়নের সহ-বিজয়ী ডেভিড ম্যাকমিলান ১৯৯০-এর দশকে স্কটল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হন। তিনি অধ্যাপনা করেন প্রিন্সটনে। এমনকি শান্তি পুরস্কার পাওয়া ফিলিপিনো-আমেরিকান মারিয়া রেসাও এই কলেজ থেকে ১৯৮৬ সালে øাতক অর্জন করেন। অর্থনীতি পুরস্কার কানাডিয়ান-আমেরিকান ডেভিড কার্ড, ইসরাইলি-আমেরিকান জোশুয়া ডি অ্যাংগ্রিস্ট এবং ডাচ-আমেরিকান গাইডো ইম্বেনস। এরা পড়াশোনা করেছেন প্রিন্সটন এবং স্ট্যানফোর্ডে।

১৯৭৫ সালে চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী ডেভিড বাল্টিমোর বলেন, ‘এর অর্থ হলো মৌলিক গবেষণার জন্য অর্থায়নই আমেরিকার নোবেল জয়ের চাবিকাঠি। অর্থায়ন আর প্রতিভার সমন্বয়ে অধ্যয়ন এবং গবেষণাই নোবেল জয়ের পথ সহজ করে দেয়। আমেরিকাতে মৌলিক গবেষণায় জোর দেয়া হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। আর সে লক্ষ্যেই ১৯৫০ সালে তৈরি হয়েছিল ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন-যারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফেডারেল তহবিল সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে।

নোবেল পুরস্কারে কোটা? সুইডিশ অ্যাকাডেমির ‘না’ : নোবেল পুরস্কারের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বা জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো ধরনের কোটা চালুর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যাকাডেমির প্রধান গোরান হ্যানসন বলেছেন, তারা চান, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন যারা করছেন, তারাই এ পুরস্কার পাক। লিঙ্গ বা জাতীয়তার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণের পক্ষে তারা নন। গোরান হ্যানসন বলেন, ‘নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা সত্যিই খুব কম এবং এটা দুঃখজনক। সমাজে যে ন্যায্যতার অভাব, সেটাই এখানে প্রতিফলিত হয়েছে, বিশেষ করে যে বছরগুলো আমরা পার করে এসেছি। সে সমস্যা এখনো রয়ে গেছে এবং এ বিষয়ে আমাদের আরও অনেক কিছু করার আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *